বাঁশিতে উচু স্বর বাজানোর বাজানোর ক্ষেত্রে কিছু সাধারন সমস্যা এবং তার কিছু সমাধান

  •  বাঁশির থেকে উৎপন্ন আওয়াজ(Tone) এর শব্দ ভঙ্গুর কিংবা অপরিস্কার হওয়া
  •  প্রচুর বাতাস তথা শ্বাস প্রশ্বাস এর আওয়াজ নির্গত হওয়া
  •  একটি ছিদ্রে একই সাথে একাধিক আওয়াজ আসা এবং সেটি ঠিক সেই ছিদ্রের  কাঙ্খিত সুর না হওয়া। কেন এমন হয়? সমাধানের জন্য নিচে Scroll করুন।

কেন এমন হয়?

১। কাধের উপর বেশি চাপ প্রয়োগের কারনে

২। চিবুক বেশি প্রসস্ত করে ফেললে।

৩। গলা বা কণ্ঠ যন্ত্রে বেশি চাপ দিলে।

৪। নাক বেশি সঙ্কুচিত করে ফেললে।

৫। মাথা সামনের দিকে ঝুকে ফেললে।

৬। বসে বাজানোর ক্ষেত্রে উরু কিংবা হাঁটুর মাংসপেশীতে বেশি চাপ প্রয়োগ করলে।

৭। দাড়িয়ে বাজানোর ক্ষেত্রে পায়ের তালু তে বেশিচাপ প্রয়োগ করলে।

এছাড়াও অনেক কারন আছে।

সমস্যার কিছু সমাধানঃ

একজন প্রাথমিক শিক্ষাত্রির কিংবা বাদকের ক্ষেত্রে সমস্যাগুলো আলাদা হয় এবং তার সেই সমস্যা গুলোর সমাধান সাধারনত ভিন্ন ভাবে শিক্ষক করে। তবু এখানে সাধরনভাবে সমস্যার সমাধান গুলো তুলে ধরা হোলো।

১। বাজানোর সময় আপনার উপরের ভুল গুলো হচ্ছে কিনা খেয়াল করুন।

২। প্রথমে নিচু স্বর গুলো কে পরিষ্কার ভাবে একেকটি ছিদ্রে কিছু সময়ের জন্য বাজিয়ে ধীরে ধীরে চোয়াল সংকোচন করুন এবং ধারাবাহিক এবং হালকা করে ফুঁ এর জোর বৃদ্ধি করুন। এবং বোঝার চেষ্টা করুন চোয়ালের পেশীতে ঠিক কিভাবে সংকোচনটা হয়। এবং ঠিক কতোটুকু চাপ প্রয়োগ করতে হয়।

মনে রাখবেন বিভিন্ন ছিদ্রে একই সাথে নিচু এবংউঁচু স্বরগুলোর ক্ষেত্রে সংকোচন কিংবা প্রসারন ভিন্ন হয়।

৩। প্রাথমিক দিকের একজন বাদকের হটাৎ করে নিচুথেকে উপরের স্বর বাজানোর চেষ্টা করা উচিত না। কারন এত তাড়াতাড়ি তার পক্ষে দক্ষতার সাথে ফুঁ এর জোর কিংবা চোয়ালের মাংসপেশীর সংকোচন পরিবর্তন করা সম্ভব না। এতে সে কাঙ্খিত আওয়াজ পাওয়ার সম্ভাবনা কম। এটি তার জন্য একটি ধীর প্রক্রিয়া হওয়া উচিত।

৪। এবং বিখ্যাত বাঁশি বিশারদ রা বার বার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যে, নিচু স্বর গুলো ঠিকমতো স্পষ্ট না করে উঁচু স্বরগুলোতে উন্নতি সম্ভব না।

৫। প্রতিদিন বাঁশিতে ফুঁ এর আওয়াজ এর গুনগতপার্থক্য (difference in Tonal Quality) বোঝার জন্য যখনই বাঁশিতে এই উঁচু স্বর বাজানোর সাধনা টিকরবেন, তার অডিও রেকর্ড করে রাখুন। এটি আপনার মোবাইল ফোন কিংবা অন্য যে কোনমোটামুটি মানের রেকর্ডার হলেও চলবে। শুধু খেয়াল রাখবেন, আপনি বাঁশি টি আপনি এমনএকটি দূরত্ব থেকে বাজাচ্ছেন যাতে করে রেকর্ডিং এ আপনার বাঁশির আওয়াজ ফেটে না যায়। প্রতিদিন তুলনামুলক এই পর্যবেক্ষণে আপনার বাঁশির আওয়াজে উন্নতির ক্ষেত্রে এটি বিশেষ সহায়কহবে।

৬। কিছুক্ষন কোন একটি ছিদ্রের নিচু স্বর ধরেস্বর টি বেশ কিছুক্ষন ফুঁ দিয়ে স্পষ্ট আওয়াজ বের করুন। তারপর ওই একই ছিদ্রের উঁচুস্বর টি তে ফুঁ দিয়ে কিছুক্ষন ধরে রাখুন। এবং ফুঁ এর পার্থক্যটি বোঝার চেষ্টাকরুন।

৭। মনে রাখবেন বাঁশিতে নিচু স্বর থেকে ধীরে ধীরেউপরের স্বরের দিকে যত যেতে থাকবেন, ফুঁ এর জোর, চোয়ালে মাংশপেশির সঙ্কচন এবং ঠোটের আকৃতির সংকোচন  এবং প্রসারন ধীরে ধীরেপরিবর্তিত হতে থাকে। এবং এর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়।

৮। এবং উপরোক্ত সব গুলো প্রক্রিয়া প্রয়োগ কিংবা সাধনের সময় কোন একটি স্বরের আওয়াজ না পেলে কিংবা কাঙ্ক্ষিত আওয়াজ না পেলে বিরক্তিজনিত কারনে বাঁশি থেকে ঠোঁট সরিয়ে নেয়া যাবেনা। কারন তাহলে আপনাকে আবার সবকিছু প্রথম থেকে শুরু করতে হবে। অর্থাৎ এতক্ষন ধরে আপনি যেই সাধনার মাধ্যমে পরিবর্তনগুলো জানতে পারছিলেন সেই প্রক্রিয়াটা ব্যহত হবে এবং আপনি আপানার উদ্দিশ্ট লক্ষ্যে সহজে পৌছাতে পারবেন না।

Article written by ZubairMalik Reza

Date: September 28. 2015

Top